ঢাকা , শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ , ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে বড় আঘাত গণতান্ত্রিক স্থিতিশীল শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন মোদির দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করতে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড এমওইউ মোদীকে দশ বছর আগের কথা মনে করিয়ে ছবি উপহার ইউনূসের নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ-ভারত বাস চালকের হদিস মেলেনি আহত শিশু আরাধ্যকে ঢাকায় হস্তান্তর নিহত বেড়ে ১১ স্বস্তির ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরলো ৬০ প্রাণ চালের চেয়েও ছোট পেসমেকার বানালেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা আ’লীগের নেতাদের রাজকীয় ঈদ উদযাপনে ক্ষুব্ধ কর্মীরা আন্দোলনে ফিরবেন বেসরকারি কলেজ শিক্ষকরা মাদারীপুরে আগুনে পুড়ল ২ বাড়ি ভৈরবের ত্রি-সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড় বর্ষবরণের আয়োজন, পাহাড়ে উৎসবের রঙ ঈদের আমেজ কাটেনি বিনোদন স্পটে ভিড় আ’লীগকে নিষিদ্ধ করা বিএনপির দায়িত্ব নয় নতুন নিয়মে বিপাকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ঈদের আগে বেতন-বোনাস পেয়ে স্বস্তিতে সাড়ে ৩ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ঈদযাত্রায় সদরঘাটে চিরচেনা ভিড় মিয়ানমারে ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা
অর্থ পরিশোধের উদ্যোগ অর্ন্তবর্তী সরকারের

শঙ্কা কাটেনি নন-ইউরিয়া সার আমদানিতে

  • আপলোড সময় : ২০-০৯-২০২৪ ১২:৫২:২৯ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২০-০৯-২০২৪ ১২:৫২:২৯ পূর্বাহ্ন
শঙ্কা কাটেনি নন-ইউরিয়া সার আমদানিতে
সারের মূল্য পরিশোধ না করায় সরবরাহকারী চার দেশ সার রফতানির চুক্তি বাতিল করেছে। বিগত সরকারের আমলে আমদানি করা সারের প্রায় এক হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়নি। আর চুক্তির খেলাপ হওয়ার কারণেই সরবরাহকারী দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে সার রপ্তানির চুক্তি বাতিল করে। এমন অবস্থায় তিন মাস ধরে বন্ধ রয়েছে নন-ইউরিয়া জাতীয় সার আমদানি। তবে অন্তবর্তী সরকার ঋণ পরিশোধ করে পুনরায় সার আমদানির দ্রুত উদ্যোগ নিয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বাংলাদেশে সার রপ্তানি করা চারটি দেশ হলো চীন, সৌদি আরব, মরক্কো ও কানাডা। বর্তমান সরকার ওসব দেশের সারের বকেয়া অর্থ পরিশোধ করে আমদানি শুরু করতে চাচ্ছে। অন্তবর্তী সরকার এর মধ্যে চীনের বকেয়া অর্থ আংশিকভাবে পরিশোধ করেছে। চীনের পাওনা ৬০ লাখ ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। আরো প্রায় দুই কোটি ৫৩ লাখ ডলার বকেয়া পরিশোধের জন্য অর্থ ছাড়করণ অনুমোদন করা হয়েছে। ওই অর্থ থেকে সৌদি আরবের এক কোটি ৫৮ লাখ ডলার এবং মরক্কোর জন্য ৮৪ লাখ ৯০ হাজার ডলার এবং কানাডার জন্য ১০ লাখ ডলার পরিশোধ করা হবে। অর্থ পাওয়া মাত্র বকেয়া বাকি অর্থ পরিশোধ করা হবে। আর বকেয়া অর্থ পরিশোধ করতে পারলে অন্যান্য দেশ থেকে সার আমদানি আরো সহজ হবে। সূত্র জানায়, দেশে প্রায় ৬৫ লাখ টন সারের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ২৬ লাখ টন ইউরিয়া, সাড়ে সাত লাখ টন টিএসপি (ট্রিপল সুপার ফসফেট), সাড়ে ১৬ লাখ টন ডিএপি (ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট) এবং সাড়ে আট লাখ টন এমওপি সারের চাহিদা রয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য সারের চাহিদা প্রায় আট লাখ টন। এর মধ্যে দেশে ইউরিয়া সার উৎপাদন হয় ৯-১০ লাখ টন। ইউরিয়া সার মূলত মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ থেকে আমদানি করা হয়। এ ছাড়া টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সার আমদানি করা হয়। সব মিলিয়ে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি দিতে হয়েছে। সূত্র আরো জানায়, সার আমদানি বাবদ গত ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের কাছে সৌদি আরব পাবে এক কোটি ৫৮ লাখ ডলার, মরক্কোর পাওনা দুই কোটি ১০ লাখ ডলার এবং কানাডা পাবে এক কোটি ৩০ লাখ ডলার। এছাড়া এসব দেশ থেকে সার আমদানি করতে জাহাজভাড়া বকেয়া রয়েছে প্রায় তিন কোটি এক লাখ ডলার। সব মিলিয়ে সার কেনা বাবদ বাংলাদেশকে প্রায় আট কোটি আট লাখ ডলার পরিশোধ করতে হবে। বকেয়া অর্থ পরিশোধ না করায় নানা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এসব জটিলতার কারণে ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে প্রায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের এলসি খোলা। তবে এসব দায় পরিশোধ করে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত উদ্যোগ নিচ্ছে কৃষি মন্ত্রণালয়। ওই লক্ষ্যে চুক্তি বন্ধ থাকা দেশের সঙ্গে নতুন করে সার আমদানির চুক্তি করাসহ অর্থ পরিশোধের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া বাড়তি দামে যেসব সার আমদানির চুক্তি হয় বা টেন্ডার দেয়া হয়েছিল, সেগুলো বাতিল করা হচ্ছে। সার আমদানিতে অর্থ সাশ্রয়ে মন্ত্রণালয় থেকে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে কৃষি সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান জানান, ডলার সংকট ও আর্থিক খাতের নানান সংস্কারের মধ্যেও বর্তমান সরকার কৃষি খাতের জন্য সার আমদানির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিষয়টি সার্বক্ষণিকভাবে কৃষি উপদেষ্টা তদারক করছেন ও নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন। আগামী ডিসেম্বরের পর থেকে বোরো মৌসুম শুরু হবে। সেই সময়ে চাহিদা অনুসারে সারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে সব ধরনের বকেয়া পরিশোধ করে আমদানি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও দপ্তরগুলো এ বিষয়ে সব ধরনের সহযোগিতা করছে। প্রতি টন সার আমদানিতে প্রায় ১০০ ডলার বেশি দাম চাওয়া হয়েছিল। সেটি বাতিল করে দাম কমিয়ে আনতে সমর্থ হয়েছি।
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স